আমনের ভরা মৌসুমে ইউরিয়া ও ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার চাহিদামতো সরবরাহ পাওয়া গেলেও ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের। এমনকি বাড়তি দাম দিতে চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে চাহিদামতো টিএসপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চরম হতাশয় দিন পার করছেন কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি, অতিরিক্ত দামেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন উত্তরের ৮৮৩টি চরের কৃষকেরা। চর এলাকায় সারের কোনো ব্যবসায়ী না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বনগ্রাম এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি আট বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান লাগিয়েছেন। ধানখেতে ছিটানোর জন্য তার ১০০ কেজি টিএসপি সারের প্রয়োজন। কিন্তু ছয়টি সার বিক্রয়ের দোকানঘুরে মাত্র ৪৫ কেজি টিএসপি সার সংগ্রহ করতে পেরেছন তিনি। তার মধ্যে ১৫ কেজি সার কিনেছেন সরকারের নির্ধারিত ২৭ টাকা কেজি দরে। বাকি ৩০ কেজি কিনতে প্রতি কেজিতে তাকে ৩-৪ টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধান গাছে শিকড় শক্ত ও গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠার জন্য টিএসপি সারের প্রয়োজন। কিন্ত তিনি চাহিদামতো সার সংগ্রহ করতে না পারায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। তবে ইউরিয়া ও ডিএপি সারের সরবরাহ চাহিদামতো রয়েছে। চাহিদামতো টিএসপি সার ধানখেতে ছিটাতে না পারলে আমনের আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাবে না। টিএসপি সারের এতটাই সঙ্কট দেখা দিয়েছে যে বাড়তি টাকা দিয়েও এ সার সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। গ্রামের কৃষকরা এখন আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত। এর মধ্যে অনেক কৃষক দুই সপ্তাহ আগেই চারা রোপণ শেষ করেছেন।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৈলমারী এলাকার কৃষক বাবলু মিয়া জানান, তিনি এ বছর ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন, কিন্তু চাহিদার ২০ শতাংশও টিএসপি সারের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরিয়া ও ডিএপি সার সরবরাহ থাকলেও তাদের প্রতি কেজি সার কিনতে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার ১৭০ কেজি টিএসপি সারের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু সংগ্রহ করেছি মাত্র ৫০ কেজি। দোকানে গেলে ডিলাররা বলছেন, টিএসপি সারের সরবরাহ নেই। বাড়তি দাম দিতে চেয়েও এই সার সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। সময়মতো টিএসপি সার ধানখেতে ছিটানো না গেলে ধান গাছের শিকড় শক্ত হবে না এবং দ্রুত গাছ বেড়ে উঠতে পারবে না।
গংগাচড়া উপজেলার মহিপুর তিস্তা চরের কৃষক মোন্নাফ মিয়া বলেন, টিএসপি সার সংগ্রহ করতে তিনি ৩ দিন সার বিক্রেতাদের দোকানে ধরনা দিয়েছেন, কিন্তু চাহিদামতো সার না পেয়ে চরম হতাশ তিনি।
এই কৃষক বলেন, ১০ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। আপাতত ১৫০ কেজি টিএসপি সারের চাহিদা থাকলেও মাত্র ৫০ কেজি সংগ্রহ করতে পেরেছি, তাও নির্ধারিত মূল্যে থেকে বাড়তি টাকা খরচ করে।
তিনি বলেন, আগের বছরগুলোতে টিএসপি সার চাহিদামতো সরবরাহ পেতাম, কিন্তু এ বছর তা পাচ্ছি না। সার বিক্রেতাদের বাড়তি টাকা দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা এলাকার সার ডিলার জুলহাস হোসেন জানান, কৃষকদের মাঝে বর্তমানে টিএসপি সারের ব্যাপক চাহিদা, কিন্তু তাদের চাহিদা অনুযায়ী এই সার দেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমার দোকানে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১০ হাজার কেজি টিএসপি সারের চাহিদা। তবে আমি সরকারিভাবে বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৫০০ কেজি। সরকার সারের বরাদ্দ না দিলে আমরা কীভাবে কৃষকের চাহিদা পূরণ করব?